ফিনিক্স বাংলার “জানা অজানাতে” আপনাকে স্বাগত জানাই। এখানে আমরা এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো আপনাকে চমকে দিতে বাধ্য করবে। চলুন তবে শুরু করা যাক। 

আমাদের চারিপাশে যে সমস্ত প্রজাতির গাছ আছে তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক প্রজাতির কথাই আমরা জানি। এমন অনেক প্রজাতি আছে যেগুলোকে সাধারণ মানুষ তো দূর, বিঞ্জানীরাও আজ পর্যন্ত বের করতে পারে নি। 
আজ আমরা মোট দশটি অদ্ভুত গাছের নাম বলবো এবং তাদের নিয়ে আলোচনা করবো। যেগুলোর কথা আপনি আগে কখনো শোনেননি।


ক) Titan Arum
এই গাছটিকে সাধারণ মানুষ “লাশ গাছ” নামে চেনে। এই গাছটি ইন্দোনেশিয়া ও মালোয়েশিয়ার রেইন ফরেস্টে দেখা যায়। এই গাছ থেকে অদ্ভুত একটি গন্ধ বেরোয় যার গন্ধ লাশের গন্ধের মতো, তাই এই গাছের নাম লাশ গাছ। এই গাছের ফুল ৮-১০ ফিট পর্যন্ত লম্বা হয় যা খুব আকর্ষনীও একটি ব্যাপার। এই গাছের ফুল ১০ বছরে শুধু একবারই কিছু ঘন্টার জন্য ফোটে। এই গাছের গন্ধের জন্য এই গাছের প্রতি বিভিন্ন পোকামাকড় আকর্ষিত হয়।

২০০৩ সালে জার্মানির বোটানিকাল গার্ডেনে এই প্রজাতির সবচেয়ে লম্বা ফুল ফুটেছিল যার উচ্চতা ছিল ৮ ফিট ১১ ইঞ্চি।

খ) Hydnora Africana
আফ্রিকার মরুভূমি অঞ্চলে এই গাছ দেখা যায়। এই গাছের আকৃতি অনান্য গাছের চেয়ে একদমই আলাদা রকমের। এই গাছের থেকেও একধরনের পচা গন্ধ বের হয় যা পোকামাকড় কে আকৃষ্ট করে এবং পোকামাকড় এই গাছে বংশ বিস্তার করে। এই গাছের মূল অংশ মাটির নীচে থাকে। শুধু লাল ফুল মত অংশ টুকু মাটির ওপরে থাকে। এই গাছের ফল মাটির নীচে হয়, যার স্বাদ আলুর মতো।

গ) Ugly Plant
পৃথিবীর প্রাচীন গাছগুলোর মধ্যে এটি একটি। এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত গাছ মনে করা হয়। এই গাছ মূলত মরুভূমি এলাকায় জন্মায়। এই গাছের পাতার গায়ে বছরের পর বছর জল সংরক্ষণ হয়। যে কোনো অবস্থায় এরা বেঁচে থাকতে পারে।

ঘ) Raffiesia Arnoldii
এই গাছের সবচেয়ে আকর্ষনীয় জিনিস হচ্ছে এই গাছের ফুল। এই গাছের ফুলকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো ফুল মনে করা হয়। এই গাছের ফুল দেখতে অদ্ভুত রকম সুন্দর হয়। ১৯৯৩ সালে ইন্দোনেশিয়াতে এই ফুলকে দূর্লভ ফুলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই গাছটি একটি পরজীবী গাছ যেটি অন্য গাছের ওপর নির্ভর করে বড়ো হয়।


ঙ) Basketball Plant
এই গাছটি বাস্কেটবলের মত হয় তাই এটির নাম বাস্কেটবল প্ল্যান্ট। এটি সাধারণত সাউথ আফ্রীকাতে পাওয়া যায় । এটি খুব ধীরে বড়ো হয়। এই গাছের ভেতর দু থেকে তিনটি বীজ থাকে। কিছু মানুষ সখে এই গাছ বাড়িতে রাখে। অবশ্য কোনো সাধারণ মানুষ চাইলে তা পারবে না। এই গাছ ছোটো অবস্থায় ফুটবল আকার থাকে। বড়ো হবার সঙ্গে সঙ্গে এটির আকার বাস্কেট বলের মত হয়ে যায়। এই গাছ মূলত গরমের দিনে বেশি তারাতারি বাড়ে। এই গাছের ফুল খুবই বিষাক্ত হয়।

চ) Randia Dumetorun
আপনি কি কখনো শুনেছেন গাছের কাতুকুতু লাগে? শোনেননিতো! তবে শুনুন, এই গাছকে কাতুকুতু দিলে এই গাছের ডালপালা নড়ে ওঠে। উওরাখন্ডের কালাধুঙ্গি জঙ্গলে এইরকম দুটি গাছ আছে যাদের শরীরে আলতো ভাবে হাত বোলালে গাছের অদ্ভুত আচরণ আপনি দেখতে পাবেন। রামনগর জঙ্গলেও এই গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এইরূপ আচরণের জন্য এই গাছকে কাতুকুতু গাছও বলা হয়ে থাকে। অনেক বিঞ্জানী এর ওপর গবেষণা করেও এর কারন বের করতে পারেনি।

ছ) Dancing Plant
আপনি গান শুনলে নাচতে শুরু করেন? করতেও পারেন বা নাও করতে পারেন। তবে এখন আমি যে গাছের সমন্ধে বলতে যাচ্ছি সে গাছ মিউজিক শুনলে নাচতে শুরু করে। এই গাছ প্রায় ১২০ সেন্টি মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। 

জ) Stone Plant
এখন যে গাছটির কথা বলবো সেটি হলো পাথর গাছ। আপনি প্রথমে দেখলে বুঝতে পারবেন না এটি পাথর না গাছ। সাধারণত তৃণভোজী প্রাণীর হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে এই গাছ নিজেদের এভাবে তৈরি করেছে। এই গাছ সাউথ আফ্রীকার মরুভূমি অঞ্চলে পাওয়া যায়। 

ঝ) Three of Life
এই গাছটি বাহারাইন এর মরুভূমির মাঝে অবস্থিত।  এই গাছ মরুভূমিতে থাকা সত্ত্বেও কখনো মরে যায় না বা জলাভাবে ভোগে না। বিশেষজ্ঞদের মতে এই গাছের শেকড় মাটির অনেক নীচে চলে গিয়েছে যার ফলে এর জলের কোনো অভাব হয় না। এই গাছটিকে দেখতে প্রতি বছর প্রচুর মানুষ ভীড় করে। এই গাছটি ৪০০ বছরের বেশি পুরোনো। উচ্চতা প্রায় ১০ মিটারের কাছাকাছি।

ঞ) Nepenthes Attenboroughii 
এই গাছটিকে আমরা কলসপত্রী গাছ হিসেবে জানি। এই গাছ দেখতে অনেকটা কলসির মতো হয় যার মাথায় একটি ঢাকনার মত থাকে। বিভিন্ন পোকা মাকর এই গাছের রংএ আকর্ষিত হয়ে এই গাছের কলসের ভেতরে ঢুকে যায় এবং ভেতরে থাকা তরল পদার্থে আটকে যায়। এই গাছ সেই সমস্ত জীব থেকে রস শোষন করে।

এরকম আরো মজার মজার তথ্য পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন। এবং যুক্ত হন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে – WhatsApp