মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও পদ্মা নদীর মাঝি

 


ফিনিক্স বাংলায় আপনাদের স্বাগত। আজ আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি বাংলা সাহিত্যের এক বিখ্যাত উপন্যাস “পদ্মা নদীর মাঝি” নিয়ে। পদ্না নদীর মাঝি উপন্যাসের সৃষ্টিকর্তা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জন্ম ১৯০৮ সালে এবং মৃত্যু ১৯৫৬ সালে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। শোনা যায়, তিনি জন্মের সময় কয়লার মতন কালো ছিল যার ফলে মানিকের ঠাকুমা তাঁকে মানিক নাম দেয়। আমরা সকলে জানি কয়লার অপর নাম কালো হীরে। ভবিষ্যতে তিনি এই নামেই খ্যাত হয়ে ওঠেন।

মানিক বাবু যে সময় কলম তুলে নেন তখন সময়টা ছিল প্রথম বিশ্বযৃদ্ধের পরবর্তী সময়। সে সময় মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে চরম সংকটময় অবস্থায় পরে ছিল তখনকার সময়ের সমাজ। সে সময় কিছু লেখক সাহিত্যে নতুন বিপ্লব বয়ে নিয়ে আসে তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।




মানিক বাবুর পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসটি তার লেখা চতুর্থতম উপন্যাস এবং এটি ১৯ টি ভাষায় অনুবাদিত হয়েছে। এবার চলে যাই উপন্যাসের মধ্যে।

উপন্যাসের মূল চরিত্র-
ক) কুবের (নায়ক/কেতুপুর গ্রামের জেলে)
খ) কপিলা (নায়িকা)
গ) হোসেন মিয়া (রহস্যময় মানুষ)

এটি একটি আঞ্চলিক উপন্যাস এই উপন্যাসে প্রকাশ করা হয়েছে মানুষের চাওয়া-পাওয়া থেকে ঈশা সমস্তটাই। আদিম ভালোবাসা, অর্থাৎ গন্ডির বাইরের বস্তুকে পাওয়ার যে মানুষের মধ্যে একটা আকাঙ্খা থাকে তা এই উপন্যাসে খুব সুন্দর করে মানিকবাবু তুলে ধরেছেন।

পদ্নানদীর তীরে অবস্থিত কেতুপুর গ্রামের জেলেদের নিয়ে রচিত এই উপন্যাসটি। জেলেদের জীবনে প্রবল ভূমিকা রাখে পদ্মার জল। এই পদ্মার জলই তাদের জীবনে আনন্দ বয়ে আনে আবার এই পদ্মার জলই তাদের জীবনে দুঃখ বয়ে আনে। মূলকথা পদ্মাকে ঘিরেই এই মানুষগুলোর ভালোথাকা-খারাপথাকা সবটা নির্ভর করে।


লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের লিস্টে আপনার নাম উঠেছে কি? দেখে নিন, টাকা কবে থেকে পাবেন।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুবের, যাকে একজন খুব সাধারন জেলে হিসেবে দেখানো হয়েছে। কুবেরের স্ত্রী মালা, মালার পা সামান্য বাঁকা৷ মালার মনে হয় তার যদি পাটা ঠিক থাকতো তবে সে কুবেরের বাড়িতে পায়ের ধুলো দিতেও আসতো না। মালার সম্পুর্ণ বিপরীতধর্মী চরিত্র কপিলা। যাকে এই উপন্যাসের নায়িকা মনে করা হয়। সাধারনভাবে এক স্বাধীন চেতনা, বাঁধন ভাঙার সাহস সমস্ততাই যেন কপিলা চরিত্রটিকে অন্যরকম একটি রূপ দান করেছে।

এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হোসেন মিয়া। যার বাড়ি নোয়াখালী অঞ্চলে। সে সেখান থেকে যখন কেতুপুরে আসে তখন তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে হোসেন মিয়া ফুলে-ফেপে ওঠে। তিনি সবসময় গ্রামবাসীর পাশে থাকতেন তাদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করতেন। তার এই চরিত্র দেখে ভালো মনে হলেও, উপন্যাসের গভীরে তার চরিত্র ক্রমশ জটিল হয়ে উঠতে থাকে। যা তাকে একটি রহস্যময় চরিত্র হিসেবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে।


অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগ 2021 | ২৬০০ শূন্যপদে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা নিয়োগ

এই উপন্যাসটি শুধু কেতুপুর বা কুবের-কপিলার নয়। এই উপন্যাসটি প্রতিটা মানুষের। এই উপন্যাসের প্রতিটা চরিত্রই যেন আমাদের চারিপাশে আমরা দেখতে পাই। আঞ্চলিক ভাষা থেকে শুরু করে প্রতিটি ছোটো ছোটো জিনিস এই উপন্যাসটিকে জীবন্ত করে তুলেছে।

সকলে একটিবার হলেও উপন্যাসটি পড়ুন। খুব অল্প পাতার একটি উপন্যাস একটু সময় করে পড়ে ফেলুন। ভালো থাকুন সকলকে ভালো রাখুন। দেখা হচ্ছে পরের পোষ্টে। 


সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি চাকরির খবর সহ সমস্ত স্কলারশিপ ও সরকারি প্রকল্পের খবর সবার আগে পেতে আজই প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করুন আমাদের WB Job News অ্যাপ।


Download WB Job News Android App



• এরকম আরো খবর পেতে আজই যুক্ত হন আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে- LINK

• এবং প্রতিদিনের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ও জেনারেল নলেজের আপডেট পেতে এখুনি সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যালেন – সাবস্ক্রাইব