গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণ লক্ষণ ও সমাধান

বর্তমান পরিস্থতিতে মানুষের জীবনযাত্রায় শারীরিক নানান অসুবিধের মধ্যে অন্যতম হলো গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। প্রায় অধিকাংশ মানুষকেই কখনও না কখনও বলতে শোনা যায়, কিছু খেতে পারিনা,খেলেই বুকের মাঝখানটা জ্বালা পোড়া করে ইত্যাদি ধরনের নানান কথা। অর্থাৎ প্রায় অধিকাংশ মানুষই এখন কমবেশি  এই অসুবিধেতে ভোগে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণ, লক্ষণ ও সমাধান।

• সবার প্রথমে বলে রাখি, এখানে দেওয়া সমস্ত তথ্য বিভিন্ন ডাক্তারের আর্টিক্যাল পড়ে ও তাদের বক্তব্য শুনে লেখা।

 

• গ্যাস্ট্রিক সমস্যা হলে কি কি হতে পারে  ~

বুক জ্বালা করা, মুখে টক টক লাগা, বমি ভাব আসা, বারবার ঢেকুর আসা, বারবার কাশি বা হেঁচকি ওঠা, কণ্ঠ কর্কশ হয়ে যাওয়া, শ্বাসে দূর্গন্ধ আসা ইত্যাদি।

 

আরো খবর পড়ুনঃ- student credit card apply online : স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড এপ্লাই পদ্ধতি এবং এর শর্তাবলী

 

• গ্যাস্ট্রিক সমস্যার কারণ~

আমরা যখন কিছু খাই তখন সেই খাওয়ার পাকস্থলীতে যায় এবং পাকস্থলী খাবার হজম করার জন্য অ্যাসিড জাতীয় বিভিন্ন উপাদান এবং আরও কিছু জিনিস তৈরি করে। অ্যাসিড এবং খাওয়ার উভয়েই পাকস্থলী থেকে নীচের দিকে নামতে থাকে।কিন্তু যদি অ্যাসিড নিচের দিকে না নেমে পাকস্থলী থেকে উপরের দিকে অর্থাৎ গলার দিকে উঠে আসে তখন আমরা বুকে জ্বালা পোড়া  অনুভব করি। কিন্তু পাকস্থলীর অ্যাসিড নীচে না নেমে উপরের দিকে উঠে আসে কেন? কোন কারন ছাড়াই এমন হতে পারে অথবা অনেক সময় কিছু কিছু জিনিস(নির্দিষ্ট কিছু খাওয়ার)  এই জিনিসটি ঘটাতে পারে। কারো কারো বেশি মশলাযুক্ত খাবার খেলে এই জাতীয় অসুবিধা হয় আবার কারো কারো ক্ষেত্রে কফি খেলে এরকম অসুবিধা দেখা যায়। একেকজনের একেক রকম হতে পারে। যারা ধূমপান করেন তাদের এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। আবার অতিরিক্ত টেনশনের কারণে এরকম সমস্যা দেখা যায়। আবার যাদের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে তারাও এ সমস্যায় ভোগে। যারা গর্ভবতী তারা প্রায়ই সমস্যায় ভোগে। এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ যেমন অ্যাসপিরিন জাতীয় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। 

 

 

 

 

•গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান~ 

 

(ক) একবারে পেট অনেকটা ভর্তি করে খেলে এই সমস্যা বেশি হয়। তাই একবারে পরিমাণে বেশি খাবার  না খেয়ে বারবার পরিমাণে অল্প করে খাবার খেতে হবে।

 

(খ) খাওয়ায় অনিয়ম করবেন না। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ করবেন। অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ করলে পাকস্থলীতে আরেকটি সমস্যা দেখা যেতে পারে, পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে এবং এর ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

 

(গ) একেকজনের জন্য একেকরকম খাবার এই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে অর্থাৎ আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আপনার ক্ষেত্রে কোন ধরনের খাবারে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং সেই খাওয়ারটি এড়িয়ে চলতে হবে।

 

(ঘ) ভর পেতের চিত হয়ে শুলে পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে আসার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই রাতে শুতে যাওয়ার অন্তত তিন চার ঘণ্টা আগে রাতের খাওয়া সেরে নিন। খেতে আপনার হজম ভালো হবে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কম হবে।

 

(ঙ) ঘুমোনোর সময় মাথা এবং বুক কোমর-এর থেকে 10 – 20 সেন্টিমিটার উপরে রাখবেন। এটি আপনার অ্যাসিড ওপরে যাওয়া প্রতিহত করবে। যাদের রাতের দিকে বুকের জ্বালা পোড়ার সমস্যা বেশি হয় তাদের জন্যে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

 

(চ) ওজন যদি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয় তবে সেটি কমানোর চেষ্টা করুন। স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ওজন শরীরের অনেক রকম সমস্যা সৃষ্টি করে। এতে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সহ ডায়াবেটিস এবং হার্টের রোগ এই জাতীয় সমস্যারও সমাধান হতে পারে। 

 

আরো খবর পড়ুনঃ- New advertisement of SBI – SBI এর নতুন বিঞ্জপ্তি – ৬১০০ শিক্ষানবিশ নিয়োগ

 

(ছ) গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপান গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ধূমপান কমিয়ে ফেলুন বা বর্জন করুন। এতে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সহ আরো অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে। 

 

• এগুলি হল ঘরোয়াভাবে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানের উপায়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বড় আকার ধারণ করে। তাই নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা দিলে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। 

 

যদি বারবার এই সমস্যা দেখা দেয়, প্রতিদিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, কিংবা তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগাতার এই সমস্যা চলে, বয়স যদি ৫৫ বা তার বেশি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

 

এছাড়াও আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে যেগুলো দেখা দিলে আরও অন্যান্য গুরুতর রোগ হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। 

 

এই লক্ষণ গুলো হলো – কোনরকম কারণ বা চেষ্টা ছাড়াই ওজন অতিরিক্ত কমে যাচ্ছে, খাবার গিলতে সমস্যা হচ্ছে বা গলায় আটকে যাচ্ছে, বারবার বমি হচ্ছে, বমি বা পায়খানার সাথে রক্ত যাচ্ছে, পায়খানা কালো হচ্ছে বা বমির মধ্যে  কফির দানার মত কিছু দেখা যাচ্ছে (এই কফির দানার মতো জিনিস গুলি  হল জমে থাকা রক্ত) , মনে হচ্ছে পেটে চাকার মতো কিছু জিনিস হয়েছে, আয়রন জনিত সমস্যায় ভুগছেন। এসব লক্ষণ দেখা যাওয়া মানেই যে গুরুতর কিছু তেমন নয়, কিন্তু গুরুতর কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তাই দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়াও যদি হঠাৎ তীব্র পেটে ব্যথা শুরু হয় তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যান।

 

netaji%2Bsubhas%2Binstitute%2Bof%2Btechnology%2Brecruitment%2B2021%2B%25284%2529

   হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লিঙ্ক ঃ- Whatsapp