ডিসেম্বর-জানুয়ারির কনকনে ঠান্ডা; একটি ছেলে খালি গায়ে হেঁটে চলেছে নিরুদ্দেশে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায় সে মৃত্যু পথযাত্রী।


বহুপ্রতীক্ষিত মিউজিক ভিডিও হেমলক গতকাল মুক্তি পেয়েছে আগন্তুক-এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে। বেশ কিছুদিন আগে ট্রেলার বের হবার পর পরই বুঝতে বাকি ছিল না যে মানুষ এটিকে কতটা ভালোবাসতে চলেছে।


এই মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছে শহরের ৮-৮০ বছরের মানুষেরা। এক-একজনের অভিনয় চোখে পড়বার মতো। গানটির সুর করেছে সংলাপ দে এবং গানটি গেয়েছেন আকাশ সরকার। এই ভিডিওর সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন রোহন নাগ। মেকাপে ছিলেন সিদ্ধার্ত দে। তাছাড়া এখানে মূল চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে সাম্যদর্শী (বাবাই) কে। আর এই সমস্ত কিছুর পেছনে যে ছিল তিনি হলেন সৌমিক চৌধুরী। 


ভিডিওটি ইউটিউব চ্যানেলে পোষ্ট করবার ঘন্টা খানেকের মধ্যেই হাজার ভিজিটর ক্রস করে। এবং ২৪ ঘন্টা শেষে ভিউজ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজারেরও বেশি। সমস্ত মানুষ এই মিউজিক ভিডিওটিকে যে বিশাল পছন্দ করেছে তা আর বলবার অপেক্ষা রাখে না।


এই মিউজিক ভিডিও অর্থাৎ হেমলকরের মূল চরিত্র  অর্থাৎ সাম্যদর্শী (বাবাই) জানায়, সত্যি বলতে অভিনয় সম্বন্ধে কোনোরকম প্র্যাকটিক্যাল নলেজ ছিলোনা, কিন্তু চেষ্টা করেছিলাম নিজের ১০০% দেওয়ার। কতটা দিতে পেরেছি তা নির্ণয় করবে দর্শকরা। তবে এই পুরো কাজটাতে যতজনের শ্রম ও ডেডিকেশন জড়িয়ে আছে এবং যারা ক্যামেরার পেছনে থেকে এতটা মন দিয়ে কাজটা করেছে তারই ফলাফল আজ আপনারা নিজেদের স্ক্রিনে দেখতে পাচ্ছেন। যেই ক্যারেক্টারটি প্লে করেছি আগে তাকে বেঁচেছি নিজের মধ্যে।তাকে ভালোবেসেছি, তাকে ভয় পেয়েছি.. আসলে কোথাও গিয়ে মনে হয়েছে এটি কোনো চরিত্র নয়, এটিই আমি। তাই অসুবিধে হয়নি শীতের রাতে যেখানে তাপমাত্রা 3-4 ডিগ্রী ছিল সেখানে প্রায় সম্পূর্ণ সময় খালি গায়ে শ্যুট করতে… একসময়তো অনেকটা ডিপ্রেসডও ছিলাম এই চরিত্রটিকে বাঁচার জন্য।

আর আজ যখন আপনাদের এত ভালোবাসা পেয়েছি, তখন কোথাও একটা মনে হচ্ছে, হয়ত চরিত্রটি বেঁচে উঠেছে। আর হ্যাঁ এটির ভিজুয়াল পার্টটি বাদ দিলেও এটি আমার আজ পর্যন্ত শোনা গানগুলির মধ্যে অন্যতম প্রিয় একটি গান।

আর আজ ‘হেমলক’ যতটা মানুষের ভাললেগেছে তা আবারও প্রমান করে ভালো কিছু তৈরি করতে পারলে জনগন তা সবসময়ই অ্যাপ্রিশিয়েট করে।


ভিডিওটি দেখবার পর কিছু মানুষ হেমলকের মানে জানতে চেয়েছে, এর উত্তরে হেমলকের ডিরেক্টর সৌমিক চৌধুরী বলেন, হেমলকের মানে আমিও জানিনা, আমরা যখন স্বপ্ন দেখি এবং জেগে উঠে স্বপ্নে দেখা ছবিগুলোকে মেলানোর চেষ্টা করি কিন্তু শেষমেষ তার কোনো ব্যথা বা পরিপূর্ণ অর্থ বের করতে পারিনা! হেমলকও ঠিক সেরকমই, এর কোনো ব্যাখ্যা নেই। আমি আমার চেনা কতগুলো ছবিকে একটি সুতোয় বাঁধতে চেয়েছি মাত্র। এটির নির্দিষ্ট কোনো মানে না থাকায় বিভিন্ন মানুষ এটাকে নিজেদের মতন গ্রহন করছে। আর আরেকটি কথা হলো হেমলক ভাবা আর আজ ইউটিউবে সবাই যে ভিডিওটা দেখতে পারছে সেই দুটো জিনিসের মধ্যে রয়েছে গোটা রায়গঞ্জের, যারা যারা হেমলকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তাদের সকলের সহযোগিতা। যা ছাড়া হেমলক শুধু কল্পনাই রয়ে যেত। সবশেষে আমি যা বলবো হেমলক আপনার ভালো লাগতে পারে;আপনার খারাপও লাগতে পারে। কিন্তু আপনি হেমলককে অস্বীকার করতে পারবেন না।


আপনি কি হেমলক দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তবে এখুনি দেখে নিন।



Lyrics


এই শহর বড়ই অসহায়

আস্তাকুঁড়ে সবাই টাকা পোড়ায়
দেওয়াল জুড়ে কেনো চুঁয়ে পড়ে ভয়
অশালীন আমাদের সময়

এখানে তেল জলে সূর্য ডুবে যায়
জেদী শিকড় ভালোবাসা নাহি পায়
মরীচিকা হারিয়ে মনের ধাঁধায়
মরণে জীবন খুঁজে বেড়ায়

বয়ে যায় দুই ধারা সমান্তরাল
ব্যর্থ কান্না আর রক্তে রাঙা লাল
স্বর্গলাভের আশায় ডানা বিফল
হঠাৎ স্খলন
অকারণে হঠাৎ ফিরে তাকায়
জলে থেকেও জল নাহি পায়
কেনো কলজের ক্ষত শুকিয়ে যায়
সে অভিশাপ
সেখানে তোমার আমার স্বপ্নের অগভীরে হেমলক রাখা

Advertisements

cheap website developers

ব্লগিং (নিউজ) ওয়েবসাইট কিরকম হয় জানতে ভিজিট করুন আমাদের 
phoenixbangla.in ওয়েবসাইটটি। সাধারন একটি নর্মাল ওয়েবসাইট তৈরি করতে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা নেয় একজন ডেভলপার। আমাদের উদ্দেশ্য কিছু বেকার যুবক-যুবতীকে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়া।