আকাঙ্ক্ষা সাহিত্য পত্রিকা

           

আকাঙ্ক্ষা সাহিত্য পত্রিকা, akankkha sahitya patrika

 

বটগাছের কথা বললেই কেন জানিনা বাবার কথা মনে পড়ে ! অনেক কটা প্রাণীকে একইসঙ্গে নিজের ছায়ায় মায়ায় ঘিরে রাখতে একমাত্র বাবাই পারেন— বটবৃক্ষের মতই ! না , একমাত্র বাবা নন,মায়েরাও স্নেহময়ী,মায়াধারী এক একটি বটবৃক্ষ ।
আগের দিনে মায়েদের রোজগার করার সুযোগ ছিল না বলে তাঁদের দাপটও কম ছিল। যদিও শুধু টাকা পয়সা রোজগার করা ছাড়া বাকী সমস্ত কাজ তাঁদের ই সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে হত। ঘরটাকেও আগলে রাখতে হত একা হাতে।নয় মাস গর্ভে রেখে সন্তান জন্ম দেওয়ার নরক যন্ত্রণা মায়েরা ভোগ করেন একা ।
কিন্তু মা হবার স্বর্গসুখ নিজে একা ভোগ করেন না— বাবাকে, বাবা হওয়ার পরিপূর্ণ সুখের ভাগও মা- ই দেন ।
আজকের যুগের ছেলে মেয়েরা ঘরে বাইরে একসাথেই পা মিলিয়ে চলছে । ঘরের কাজ, বাইরের কাজ দুজনে ভাগ করেই করছে মিলেমিশে।ব্যতিক্রম থাকলেও,মা মা-ই হন, তাঁর জায়গাটি কেউই নিতে পারেন না– আগের দিনেও না —এখনকার দিনেও না ।
তবু কেন যে তুলনা কালে বটবৃক্ষের সাথে শুধু বাবার ছায়াই প্রথমে ভাসে জানিনা ! আমি ও এর ব্যতিক্রম নই ।তবে আমি মায়েদেরও বটবৃক্ষই মানি ।

আজীবনকাল ধরে হাজার হাজার পোকা-মাকড়,পাখি নিশ্চিন্তে বসবাস করে বটবৃক্ষের আশ্রয়ে । কিন্তু আমরা মানুষেরা আজীবন কাল বটবৃক্ষের ছায়া পাই না।বাবা মা তাঁদের সন্তানদের রেখেই খুশি খুশি এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে চান,চলে যান ও । ছেলেমেয়েরা শোক কাটিয়ে ধীরে ধীরে নিজেরাই এক একটি বটবৃক্ষ হয়ে ওঠে, তাঁদের ছেলেমেয়েদের কাছে । এটাই কালের নিয়ম !

এ যুগে বাবা মাকে আমরা বনসাই করে রেখে দেই ।একটু বড়ো হতেই প্রত্যেকে নিজের নিজের মতানুসারে চলতে শুরু করি তাঁদের মতামত উপেক্ষা করে । ভাবি বাবা মায়েরা বুঝি ব্যাকডেটেড ।তবু শীতল ছায়া বিলোতে কখনও কোনো কার্পণ্য করেন না তাঁরা ।

বাবা মা হারিয়ে গেলে বুঝতে পারি তাঁরাই ঠিক ছিলেন। আক্ষরিক অর্থেই ,বয়সে পরিণত না হলে, ঠিক বাবা হওয়া যায় না—মা হওয়াও যায় না, বোঝা যায় না কেন তাঁরা বটবৃক্ষ ! বয়স না বাড়লে ছায়াও বুঝি শীতল হয় না পুরোপুরি ! 
অনেক ঝড়-জল সয়ে , অনেক অভিজ্ঞতার পথ-প্রান্তর পেরিয়ে তবেই তার ফলস্বরূপ ধৈর্য্য সহ্যের প্রতিমূর্তি রূপে বাবা মায়ের আত্মপ্রকাশ। সেই পথটা চিনতে আমাদেরও অপেক্ষা করতে হয় ।বাবা-মা হওয়ার জন্য–পরিপূর্ণ বটগাছ হওয়ার জন্য। 
বটের বীজ থেকে জন্মানো ছোট্ট একটা গাছই আস্তে আস্তে স্নেহ মায়ার শেকড় ছড়িয়ে বটগাছ হয় — মহীরুহ হয় ,বাবা মায়ের  মতো ! তারপর কেমন করে যেন  ছায়ায় মায়ায় বেঁধে ফেলে আত্মীয় পরিজন , পশু পাখি,বিশ্ব সংসার ! স্বার্থ ছাড়াই সেবা বিলিয়ে যায় আজীবন। তাঁদের রক্ষা করার, তাঁদের সুস্থ ভাবে 
বাঁচতে দেয়ার সুযোগ, মানুষকেই করে দিতে হবে ।
তাতেই সমাজ, সংসার পরিবেশ সকলের মঙ্গল ।

 

আকাঙ্ক্ষা সাহিত্য পত্রিকা, akankkha sahitya patrika
“আকাঙ্ক্ষা সাহিত্য পত্রিকা” য় সকলকে স্বাগত। আপনি যদি লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন তবে আহই যুক্ত হন আকাঙ্ক্ষা সাহিত্য পত্রিকায়। প্রতি শনিবার এই পত্রিকা প্রকাশিত হয়। লেখা পাঠান [email protected] ইমেলে।


এবং “আকাঙ্ক্ষা সাহিত্য পত্রিকা” র হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হতে চাইলে ক্লিক করুন পাশে থাকা লিঙ্কে- WhatsApp

সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি চাকরির খবর সহ সমস্ত স্কলারশিপ ও সরকারি প্রকল্পের খবর সবার আগে পেতে আজই প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করুন আমাদের WB Job News অ্যাপ।


Download WB Job News Android App