Can-mobile-phone-cause-cancer

ফিনিক্স বাংলায় সকলকে স্বাগত। আজ আমরা আবারও চলে এসেছি একটি গুরুত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে। বহু মানুষ মনে করে তাদের ব্যবহার করা মোবাইলটি ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। এই ভাবনাটি অমূলক নয়। কারণ আমরা সবসময় আমাদের মাথার পাশে এমন একটা যন্ত্র ধরে থাকি যা অনবরত রেডিয়েশন সৃষ্টি করে। তবে এই রেডিয়েশন কি আমাদের ক্ষতি করতে পারে? ক্ষতি করলেও কতটা পারে? এই সমস্ত বিষয় নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।

মোবাইল ক্যান্সার সৃষ্টি করে কি না তা জানবার আগে আমাদের জানতে হবে রেডিয়েশন আসলে কি? রেডিয়েশন হচ্ছে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ওয়েভ যা একস্থান থেকে অপর স্থানে আলোর গতিতে শক্তি পরিবহন করে। আরো সহজ ভাবে বললে রেডিয়েশন হলো একপ্রকার আলো। আপনি আপনার সুবিধার্থে ধরে নিন সূর্য থেকে যে আলো আসছে সেটি একপ্রকার রেডিয়েশন। এবার আলো যে আসছে তা একা আসে না সঙ্গে শক্তি পরিবহন করে নিয়ে আসে, এই শক্তির ওপর নির্ভর করে রেডিয়েশনকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন NON-IONIZING রেডিয়েশন ও IONIZING রেডিয়েশন। NON-IONIZING রেডিয়েশনের আন্ডারে পরে রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ অর্থাৎ আমাদের ব্যবহৃত রেডিও ও মাইক্রোওয়েভ থেকে যে রেডিয়েশন নির্গত হয় তাকে NON-IONIZING রেডিয়েশন বলে। IONIZING রেডিয়েশনের আন্ডারে পরে এক্স-রে ও গ্রামারে। আর এই দুই প্রকার রেডিয়েশনের মাঝে আলোর যে অংশটি থাকে তাকে আমরা দৃশ্যমান আলো বলে থাকি। অর্থাৎ যে আলো আমরা সব সময় দেখতে পাই।

Cellphones and cancer

এবার আসি এই দুই ধরনের রেডিয়েশনের মধ্যে পার্থক্য কি? আমরা সকলেই জানি আলো তরঙ্গ আকারে একস্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়। অনেকটা জলের ঢেউয়ের মত। এবার আপনি জলে একটি ঢিল মারলে, যেখানে ঢিল মারবেন সেখানে ঢেউয়ের পরিমান ঘন হয় এবং ঢেউটি যত দূরে যায় তত ঢেউয়ের আকার পাতলা হতে থাকে। আপনার সুবিধার্থে যেখানে ঢেউয়ের পরিমান ঘন সেটিকে IONIZING রেডিয়েশন হিসেবে মনে করতে পারেন। এবং যেখানে ঢেউয়ের আকার প্রায় সমান সেখানকার ঢেউকে NON-IONIZING হিসেবে ধরতে পারেন। আলোও এরকম তরঙ্গ আকারে যাতায়াত করে।

এবার আসি আমাদের মোবাইলের গল্পে, মোবাইল থেকে যে রেডিয়েশন বের হয় তা NON-IONIZING রেডিয়েশন। যা মানুষের শরীরের ক্ষতি করতে পারে না। আচ্ছা এবার আপনার প্রশ্ন হতে পারে NON-IONIZING রেডিয়েশন মানুষের ক্ষতি কেন করতে পারে না? রেডিয়েশনের ক্ষতি করার পদ্ধতি হলো সে আপনার শরীর ভেদ করে আপনার কোষের কেমিক্যাল বন্ড ভেঙে দেয় এবং যার ফলে আপনার শরীরের DNA নষ্ট হয়। DNA নষ্ট করতে পারে IONIZING রেডিয়েশন। এই DNA নস্ট হবার থেকেই আমাদের শরীরে টিউমার এবং তা থেকে ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।

আমাদের মোবাইল থেকে যে রেডিয়েশন বের হয় তা হলো NON-IONIZING রেডিয়েশনের রেডিও ওয়েভ রেডিয়েশন। যা আমাদের শরীরের কোনোরূপ ক্ষতি সাধন করতে পারে না। অর্থাৎ আপনি যে মোবাইল ব্যবহার করছেন তা আপনার শরীরে কোনোভাবেই ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ হতে পারে না।

এরকমই আরও খবর পেতে ডানদিকের নীচে থাকা টেলিগ্রাম আইকনে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হন।