How-to-Earn-Money-Online-from-Home-2022

বর্তমান সময়ে যতই দিন গড়িয়ে যাচ্ছে ততই আমাদের সামনে চাকরির দরজা বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু চাকরির বিকল্প হিসেবেও আমাদের সামনে উঠে আসছে বিভিন্ন কাজ। টাকা-পয়সা না খরচ করে আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারি। আমরা আজ এমনই পাঁচটি কাজ নিয়ে আলোচনা করবো। আমরা যে কাজ গুলোর কথা আলোচনা করবো সেগুলো সবগুলোই অনলাইন বেসিস কাজ। এতে কোনো পুঁজি লাগে না। লাগে ধৈর্য্য।

(ক) সবার প্রথমে আমরা যে কাজটি নিয়ে আলোচনা করবো সেটি হলো ব্লগ ওয়েবসাইট বা নিউজ পোর্টাল। এটিতে মূলত আপনাকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় এবং তারপর তার মধ্যে আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সেই বিষয়ে পোষ্ট লিখতে হবে। ব্যাস এটুকুই কাজ। বর্তমান সময়ে ওয়েবসাইটের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, মানুষ যত চাকরি বিমুখী হচ্ছে ততই মানুষ এসবের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

ব্লগিং ওয়েবসাইট ইনকাম করে সাধারণত গুগল অ্যাডের মাধ্যমে। আপনার পোষ্ট যত মানুষ পড়বে এবং তাদের যে পরিমান অ্যাড দেখানো হবে তার ওপর ইনকাম নির্ভর করে। বর্তমান সময়ে যত নিউজ পোর্টাল রয়েছে বা আপনি গুগলে কিছু সার্চ করে যে রেজাল্ট গুলো দেখতে পান সব গুলোই আসলে এক একটা ব্লগ ওয়েবসাইট।

(খ) আমাদের দ্বিতীয় নাম্বারে রয়েছে ইউটিউব। মোবাইল ব্যবহার করেন অথচ ইউটিউবের নাম শোনেনি এমন মানুষ হয়তো এখন পাওয়া সম্ভব নয়। চাকরির বিকল্প হিসেবে অনেকে ইউটিউব কে বেছে নিয়েছে। আপনিও চাইলে সম্পূর্ন বিনা পয়সায় একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে আপনার দক্ষ বিষয়ের ওপর ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে পারেন।

ইউটিউব ইনকাম ব্লগ ইনকামের মতনই, এখানেও গুগল অ্যাডের মাধ্যমে ইনকাম হয়।

(গ) আমাদের তৃতীয় নাম্বারে যে জিনিসটি রয়েছে সেটি হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। শব্দটা ভারী মনে হলেও টপিকটা জটিল নয়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মূল কথা হলো আপনি নির্দিষ্ট কোম্পানির কোনো জিনিস (যা কিছু হতে পারে) বিক্রি করে দিলে। সেই কোম্পানি আপনাকে সেই জিনিসের দামের ৫%-১০% কমিশন দেবে।

আপনারা সকলেই অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্ট এর নাম অবশ্যই শুনেছেন। আপনাদের কাজ হবে এই দুই কোম্পানিতে অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্ট তৈরি করা এবং তারপর তাদের যে কোনো প্রোডাক্ট বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে সেল করা। এতে আপনার এক টাকাও খরচ হবে না। যদি আপনার ব্লগিং সাইট বা ইউটিউব চ্যানেল থাকে তবে তার মাধ্যমেও আপনি এই কাজটি খুব সহজে করতে পারেন।

(ঘ) আমাদের চতুর্থ নাম্বারে রয়েছে ফ্রিল্যান্সিং। বর্তমান সময়ে আমাদের পরিচিত শব্দ গুলোর মধ্যে এই শব্দটা আমরা প্রায়ই শুনতে পাই। ফ্রিল্যান্সিং শব্দের সাদা-মাটা অর্থ উন্মুক্ত পেশা। অর্থাৎ আপনি ফাঁকা সময়ে আপনার ইচ্ছে মত যে কাজ করে এক্সট্রা উপার্জন করে থাকেন সেটাই ফ্রিল্যান্সিং। এবার আসি এটা শুরু করবেন কিকরে? এবং এতে কি কি যোগ্যতা লাগে? উপার্জন কেমন?

ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটির দরকার সেটা হলো আপনার স্কিল। ধরে নিলাম আপনি একজন ডাক্তার কিন্তু আপনার ওয়েব ডেভেলপিং জানা রয়েছে তবে আপনি ডাক্তারের কাজ সম্পূর্ন করে বাকি সময়টায় ওয়েব ডেভেলপিং করে এক্সট্রা ইনকাম করতে পারেন এটাই ফ্রিল্যান্সিং। আপনি চাইলে পার্টটাইম বা ফুল টাইম ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।এমন অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখান থেকে ফ্রিল্যান্সিং কর্মীদের মোটা বেতনে হায়ার করা হয়। আপনি চাইলে এই কাজটি করতে পারেন। কোনো রকম ইনভেস্টমেন্ট নেই লাগবে শুধু আপনার দক্ষতা।

(ঙ) এবং আমাদের শেষ নাম্বারে রয়েছে আর্টিকেল রাইটার। আপনি বেশ গুছিয়ে লিখতে পারেন তবে এই দক্ষতাই আপনার কাছে বর হয়ে আসতে পারে। বর্তমান সময়ে যেরকম করে ওয়েবসাইটের সংখ্যা বাড়ছে সেভাবেই আর্টিকেল রাইটার এর চাহিদাও বাড়ছে। আপনি বাংলা-ইংরেজি-হিন্দি যে ভাষাতেই লিখতে পারেন না কেন সবেতেই আপনি এই কাজ করতে পারবেন। এই কাজটি মূলত ফ্রিল্যান্সিং এর আন্ডারে পরে। এই কাজে আয় বেশ ভালো এবং ইনভেস্টমেন্ট শূণ্য।

ওপরের যে কটা কাজের নাম উল্লেখ করলাম সবগুলোই আপনি সম্পূর্ন বিনামূল্যে শুরু করতে পারবেন এবং এসবের ইনকাম একটি চাকরির থেকে কয়েক গুন পর্যন্ত বেশিও হতে পারে।

সমস্ত চাকরির খবর সবার আগে পেতে ডানদিকের নীচে থাকা টেলিগ্রাম আইকনে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হন।