Reletion-between-light-and-seeing-wrong-of-humans

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি ভূতে বিশ্বাস করেন? কিছু মানুষের উত্তর হবে হ্যাঁ আবার কিছু মানুষের উত্তর হবে না। এই ব্যপারটা সমস্তটাই যার যার নিজস্ব ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে।

আজ আমরা ভূতুড়ে একটি ব্যপার নিয়েই আলোচনা করবো। যা আমাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত হচ্ছে কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না। ভূতুড়ে ব্যপার হলেও এখানে মিথ্যা বলে কিছু নেই সমস্তটাই সত্যি। চলুন তবে শুরু করা যাক।

আমাদের চারিপাশে যা রয়েছে বা আমরা রাতের আকাশে যা দেখি সমস্তকিছুই এই পর্বের অংশ। খুব সহজ করে শুরু করা যাক। আমরা আমাদের চারিপাশের জিনিসকে কিকরে দেখতে পাই? অবশ্যই আপনি বলবেন চোখ দিয়ে! উত্তরটা ঠিক তবে আংশিক শুধু চোখ থাকলেই মানুষ সমস্ত কিছু দেখতে পেতো না যদি না আলো থাকতো। সেই সময় কি হয়? ধরুন আপনি আপনার সামনে থাকা একটি চেয়ার দেখছেন, এই দেখার পেছনে আপনার চোখের গুরুত্ব যতখানি আলোর গুরুত্বও ঠিক ততখানিই। আপনার ঘরে জ্বালানো বাল্ব বা টিউব থেকে আলোকরশ্মি সবার প্রথমে আপনার সামনে থাকা চেয়ারে পড়ছে এবং তারপর সেই আলোকরশ্মিই চেয়ার থেকে প্রতিফলিত হয়ে আপনার চোখে পরছে; সেই সময় আপনি আপনার সামনে থাকা চেয়ারটি দেখতে পারছেন। এখন আপনি আপনার ঘরের আলো নিভিয়ে দেন দেখবেন আপনার চোখ থাকলেও আপনি আপনার সামনে থাকা চেয়ারটি দেখতে পাবেন না কারন তার থেকে কোনো আলো আপনার চোখে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

এবার চেয়ার থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আপনার চোখে পড়তে কিছুটা সময় লাগে, সময়টা খুবই সামান্য হলেও লাগে। অর্থাৎ আপনার চোখ আর চেয়ারের দূরত্ব যত বেশি হবে আলো চেয়ার থেকে আপনার চোখে পৌঁছাতে ঠিক ততটাই বেশি সময় লাগবে! তাইতো? বুঝতে পেরেছি আপনাদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে! আপনাদের সুবিধার জন্য আমরা আরো একটি কমন জিনিস কল্পনা করি সেটা হলো রাতের তারা। আপনি রাতের আকাশে তাকালে বহু তারা দেখতে পাবেন। এবার তারাগুলি পৃথিবী থেকে বহু বহু দূর অবস্থিত, অর্থাৎ তারা থেকে আপনার চোখে আলো আসতেও তার মানে বহু সময় লাগার কথা। আরো সহজ করবার জন্য আমরা একটা তারা নিয়ে নিই যার নাম Proxima Centauri, এটি পৃথিবী থেকে ৪.২৪ লাইট ইয়ার দূরে অবস্থিত।

আলোর বেগ কত? আমরা যখন হাটি তখন আমাদের একটি বেগ থাকে। যখন দৌড়াই তখন আমাদের বেগ বেড়ে যায়। অর্থাৎ একটা বস্তু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে যতটা সময় নেয তাকে তার বেগ বলে। ঠিক তেমনি আলোর‌ও বেগ রয়েছে এবং এটি হলো ৩০০০০০ কিলোমিটার/সেকেন্ড। অর্থাৎ আলো এক সেকেন্ডে ৩০০০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। আর আলো এক বছরে যতটা পথ অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলে।

এবার আমরা যে তারাটির কথা ভেবেছিলাম সেটার দূরত্ব ৪.২৪ আলোকবর্ষ। মানে সেই তারাটি থেকে আলো আমাদের পৃথিবীতে আসতে সময় নেয় ৪ বছর ৩ মাস। এবার ধরুন সেই তারাটিতে আজ একটি বিস্ফোরন হলো সেই বিস্ফোরন আমরা দেখতে পাবো আজ থেকে ৪ বছর তিনমাস পরে। আর আমরা আজ সেই তারাটির যে রূপ দেখছি সেটা আজ থেকে ৪ বছর ৩ মাস আগের। কারন আলো সেই তারাটিতে পরে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের কাছে আসতে ৪ বছর ৩ মাস সময় নিয়েছে।

যদি এমনটা হয় তবে তো চাঁদ বা সূর্য থেকেও আলো আসতে নির্দিষ্ট কিছুটা সময় লাগে? অবশ্যই আপনি ঠিকই ধরেছেন। চাঁদ থেকে আলো পৃথিবীতে আসতে সময় লাগে ১.৩ সেকেন্ড। একই ভাবে সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। অর্থাৎ আমরা সূর্যের যে অবস্থা দেখতে পাই তা সূর্যের ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে ঘটে গিয়েছে। ধরে নিন যদি সূর্য হঠাৎ করে কখনো নিভে যায় (ধরে নিতে বলেছি) তবে সেই নেভা অবস্থা দেখতেও আমাদের ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হবে।

ঠিক সেভাবেই প্রতিটা জিনিস থেকে আলো আসতে কিছুটা সময় লাগে সেটা আপনার আর আপনি যা দেখছেন সেটার দূরত্বের ওপর নির্ভর করে। এবার আপনি যে চেয়ারটি দেখছিলের সেটার থেকেও আলো আপনার চোখে পড়তে কিছুটা সময় লেগেছে অর্থাৎ আপনি যখন চেয়ারটিকে দেখছেন তখন আসলে আপনি চেয়ারটির অতীত দেখছেন। বর্তমান নয়। পৃথিবীর প্রতিটা জিনিসেরই সেভাবে আপনি অতীত দেখছেন। সেই সময়টা প্রচন্ড কম হলেও আপনি কোনো জিনিসের পারফেক্ট বর্তমান কখনো দেখতে পারবেন না।

আমরা প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছি। শেষ করবো একটি মজাদার উদাহরন দিয়ে, মনে করুন পৃথিবী থেকে ৬৫ মিলিয়ন লাইট ইয়ার (আলোকবর্ষ) দূরে একটি গ্রহ রয়েছে। অর্থাৎ সেই গ্রহ থেকে আলো আসতে আমাদের গ্রহে সময় লাগবে ৬৫ মিলিয়ন বছর। ঠিক একই ভাবে আমাদের গ্রহ থেকে সেই গ্রহে আলো যেতেও সময় লাগবে ৬৫ মিলিয়ন বছর। এবার ধরে নেওয়া যাক সেই গ্রহে যারা বাস করে তারা প্রযুক্তির দিক থেকে বড়ো উন্নত। এবার তারা যদি খুব শক্তিশালী একটি টেলিস্কোপ আবিস্কার করে পৃথিবীকে দেখতে সক্ষম হয় তবে তারা পৃথিবীর ৬৫ মিলিয়ন বছর আগের ছবি দেখতে পাবে। অর্থাৎ তারা দেখবে পৃথিবীতে ডাইনোসর ঘুরে বেড়াচ্ছে। আশ্চর্য লাগলেও এটাই সত্যি। আবার একি ভাবে পৃথিবীতে যদি কোনো শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে এত দূরের জিনিস দেখা সম্ভব হয় তবে আমরাও সেই গ্রহের ৬৫ মিলিয়ন বছর আগের অবস্থা দেখতে পারো।

সকলে ভালো থাকবেন, এরকম লেখা আরো চাইলে আমাদের ইমেইলের মাধ্যমে জানাতে পারেন। এটি আমাদের নতুন উদ্যোগ।