Apply-to-Seba-Sakhi-prakalpa-and-get-ten-thousand-rupees

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের পর বাংলার মহিলাদের জন্য আসতে চলেছে আরও একটি নতুন প্রকল্প, যার নাম সেবা সখী প্রকল্প। এই প্রকল্পের দ্বারা বাংলার মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পটি আসলে কি, কীভাবে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে হবে, কারা কারা আবেদন করতে পারবে সমস্ত কিছু বিস্তারিত আলোচনা করবো আজকের এই পোস্টে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

• সেবা সখী প্রকল্পটি আসলে কি?

বাংলার মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য এই প্রকল্পটি আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। এতে করে পশ্চিমবাংলার মহিলাদের মানুষের সেবায় নিয়োজিত করা হবে। সদ্যোজাত থেকে বয়স্কদের সেবা, অসুস্থদের দেখভাল, শুশ্রূষার দায়িত্ব দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের। এতে একদিকে যেমন মহিলারা কর্মসংস্থান পাবে অন্যদিকে সেবামূলক কাজও হবে। প্রথমে পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে তিনটি জেলার বাছাই করা কিছু মহিলাদের এই কাজের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে সেবা সখী প্রকল্প। এতে মহিলারা আত্মনির্ভর হয়েও উঠবে।

• সেবা সখী প্রকল্পে কি কি কাজ করতে হবে?

সেবা সখি প্রকল্পের জন্য মহিলাদের এক মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন মহিলাদের শেখানো হবে কিভাবে একজন শয্যাশায়ী রুগীর সুচিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিতে হয়। এছাড়াও রোগীদের কিভাবে যত্ন নেওয়া বা দেখভাল করা উচিত, তাদের ওষুধ পত্র কিভাবে খাওয়াতে হবে, রোগীকে ইনজেকশন পুশ করার সঠিক পদ্ধতি, রোগীর শরীরে স্যালাইন কিভাবে দিতে হয়, রোগীর শরীরের ক্ষত অংশ কিভাবে চিকিৎসা করতে হয় ইত্যাদি সমস্ত প্রয়োজনীয় নার্সিং এর সম্পূর্ণ পদ্ধতি শেখানো হবে এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন। সেবা সখী প্রকল্পটি গ্রামাঞ্চল এবং শহরাঞ্চলে নানান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গ্রাম অঞ্চলে ছোটখাটো স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও কোনো কোনো স্থানে হাসপাতাল নেই। হাসপাতালের দূরত্বের কারণে রোগীদের অনেক সময়ই প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। তাই এই প্রকল্প চালু হলে গ্রামাঞ্চলের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও সাধারণ শয্যাশায়ী রোগীরা প্রচুর পরিমাণে সুবিধা পাবে। অন্যদিকে শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অন্যান্য রোগীদের সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। তাই এই প্রকল্প শহরাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে।

• সেবা সখী প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কিভাবে দেওয়া হবে?

সেবা সখী প্রকল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রতিটি ব্লক থেকে ২০-৪০ জনকে এই প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হবে। তারপর আনন্দধারা প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের বৃদ্ধদের দেখভাল করা নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ট্রেনিং অর্থাৎ প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রাথমিক চিকিৎসা ডায়াবেটিস, রক্তচাপ পরীক্ষা ইত্যাদি সাধারণ রোগের চিকিৎসা বিষয়ক নানা রকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে দেওয়া হবে সার্টিফিকেট। এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলারাই পরবর্তীতে তাদের ব্লক বা এলাকায় অন্য মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন।

• সেবা সখী প্রকল্প কবে থেকে শুরু হবে?

পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া এবং হাওড়ার আমতা ব্লকে এই প্রকল্প রূপায়ণ করা হবে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সারা রাজ্য জুড়ে এই প্রকল্প রূপায়ণ করার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। প্রথমে প্রতিটি ব্লক থেকে ২০ জন মহিলাকে বাছাই করে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

• সেবা সখী প্রকল্পে মহিলাদের বেতন কত দেওয়া হবে?

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেবা সখী প্রকল্পে নিযুক্ত মহিলাদের মাসিক ১০,০০০ টাকা করে বেতন দেওয়া হবে।

• সেবা সখী প্রকল্পে আবেদন করতে হবে কিভাবে?

এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে হবে অফলাইনের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস কিংবা বিডিও অফিস থেকে আবেদন করার জন্য ফর্ম নিয়ে এসে তা সঠিকভাবে ফিলাপ করে জমা দিতে হবে। এরপর পঞ্চায়েত থেকে সিলেকশন করা হবে। যেসব মহিলাদের নাম সিলেক্টেড হবে, তারা সেবা সাথী প্রকল্পের কাজে নিযুক্ত হতে পারবে।

পোষ্টটি ভালোলাগলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং এরকম আর‌ও তথ্য পেতে আজই যুক্ত হন আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে