No-more-free-rations-has-been-given

পশ্চিমবঙ্গ সহ আরও অন্যান্য রাজ্যে বন্ধ হতে চলেছে বিনামূল্যে রেশন দেওয়া বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে। এমনই উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এতোদিন রাজ্যের অতিরিক্ত ভর্তুকির জেরে গ্রাহকরা বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পেয়ে থাকতো। এখন থেকে রাজ্য সরকার জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রেশন গ্রাহকদের খাদ্যশস্যের জন্যে কোনও অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে পারবে না। এমনই এক খসড়া প্রস্তাব তৈরী করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের খাদ্য মন্ত্রক। এই খসড়ায় পশ্চিমবঙ্গ সহ মোট ১২ টি রাজ্যের কথা উল্লেখ রয়েছে, যে রাজ্য সরকার গুলি জাতীয় প্রকল্প গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। এই রাজ্যগুলি অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত দামের থেকে কমে বা বিনা পয়সায় কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পরিমাণ খাদ্য গ্রাহকদের সরবরাহ করে।

রাজ্য সরকার ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে চাল-গমের ওপর অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে জাতীয় প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় ৬ কোটি ২ লক্ষ রেশন গ্রাহককে বিনামূল্যে তা সরবরাহ করতো। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের আনা খসড়া বাস্তবায়িত হলে এখন থেকে আর বিনামূল্যে মিলবে না খাদ্যশস্য। গ্রাহকদের রেশন দোকান থেকে নির্ধারিত দামে চাল (৩ টাকা কেজি দরে), গম ( ২ টাকা কেজি দরে) কিনতে হবে।
এছাড়াও, গ্রাহকদের বাড়িতে বাড়িতে রেশন পৌঁছে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিও খাদ্য সুরক্ষা আইন বিরোধী বলে দাবি করা হয়েছে খাদ্য মন্ত্রকের আনা এই খসড়া প্রস্তাবে।

এছাড়াও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের নাম বদলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনা বা প্রধানমন্ত্রী অন্নপূর্ণা যোজনা করার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফ থেকে বলা হয়েছে যে, রাজ্য সরকার গুলি যদি মনে করে তবে জাতীয় প্রকল্পের গ্রাহকদের জন্য অন্য কোনো প্রকল্পও তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে খাদ্য সুরক্ষা আইন উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে জানাতে হবে কেন্দ্রকে । তাছাড়াও রাজ্য সরকার ভর্তুকির জন্য যে টাকা খরচ করছে, সেই টাকা চাইলে গ্রাহকদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারে। কিন্তু তা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পটিকে কোনোভাবে “টপ আপ” করতে পারবে না।

খাদ্যমন্ত্রী কে রেই খসড়াটি নীতি আয়োগ এবং অর্থ সহ কয়েকটি মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সমস্ত মন্ত্রকের মতামত আসার পর চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা হবে। এরপর তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

পোষ্টটি ভালোলাগলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং এরকম আর‌ও তথ্য পেতে আজই যুক্ত হন আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে