Apply-to-Bangla-Shasya-Bima-Prakalpa-2022

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার কৃষকদের ফসল রক্ষা করার উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছে বাংলা শস্য বীমা যোজনা। এই বাংলা শস্য বীমা যোজনা কি, কারা কারা আবেদন করতে পারবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে সমস্ত কিছু বিস্তারিত আলোচনা করা হলো আজকের এই পোস্টে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

• বাংলা শস্য বীমা যোজনা আসলে কি?

অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যায় কৃষকের। এতে তাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে কৃষকদের আর্থিক অনটন‌ও দেখা যায়, যার ফলে তারা ব্যাংকের লোন অনেকসময় শোধ করতে পারে না। এসব পরিস্থিতিতে কৃষকদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই এই বীমা যোজনা। এই বীমা যোজনা শস্যের বীমা ইন্সুরেন্স করা হয়। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সেই ফসলের ক্ষতি হলে কৃষককে বীমার টাকা দেওয়া হয়। এই বীমার টাকা দেওয়া হয় সরকারের তরফ থেকে।

• কারা কারা বাংলা শস্য বীমা যোজনায় আবেদন করতে পারবে?

(১) আবেদনকারী কৃষককে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে।
(২) কৃষকের নিজস্ব চাষযোগ্য জমি থাকলে, কৃষক ভাগচাষী হলে, কৃষক অন্যের ভাড়া নেওয়া জমি চাষ করলে আবেদন করতে পারবে।
(৩) কৃষকের বয়স কমপক্ষে ১৮ হতে হবে।
(৪) পুরুষ/ মহিলা যেকোনো কৃষক আবেদন করতে পারবে।
(৫) কৃষকের আধার কার্ড/ভোটার কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার থাকতে হবে।

• কোন ফসলের ওপর বাংলা শস্য বীমা হয়ে থাকে?

পশ্চিমবঙ্গে ধান, গম, মুসুর, সরিষা, তিল, চিনাবাদাম, আখ, আলু চাষের জন্য এই বাংলা শস্য বীমা দেওয়া হয়ে থাকে।

• বাংলা শস্য বীমার প্রিমিয়াম কীভাবে দিতে হয়?

বাংলায় আলু ও আখ চাষের ওপর শস্য বীমা করলে তার প্রিমিয়াম দিতে হবে। শুধুমাত্র এই দুটি ফসলের ক্ষেত্রেই প্রিমিয়াম দিতে হবে। প্রিমিয়ামের পরিমাণ হবে ৪.৯৫%।

• বাংলা শস্য বীমায় কতো টাকা পাওয়া যাবে?

ফসল ৭৫% নষ্ট হলে সর্বাধিক ২৫% পর্যন্ত বীমা দেওয়া হবে। তবে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষেত্রে ফসল ৭৫% নষ্ট হলে সর্বাধিক ৫০% পর্যন্ত বীমা দেওয়া হয়।

• বাংলা শস্য বীমা যোজনায় কিভাবে আবেদন করতে হবে?

বাংলা শস্য বীমা যোজনায় আবেদন করতে হবে অফলাইনে। অফলাইন আবেদন করার জন্য স্থানীয় কৃষি দপ্তর কিংবা অঞ্চল অফিসে গিয়ে আবেদনের ফর্ম সংগ্রহ করে সেটিকে সঠিকভাবে পূরণ করে জমা করতে হবে।

• বাংলা শস্য বীমা যোজনার আবেদন করতে কি কি ডকুমেন্টস লাগবে?

(১) ভোটার কার্ড।
(২) আধার কার্ড।
(৩) ব্যাংকের পাসবইয়ের জেরক্স।
(৪) পাস বইয়ের ছবিসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার।
(৫) জমির খতিয়ান ও পরচা।
(৬) ভাগচাষীদের ক্ষেত্রে জমির অধিকার সংক্রান্ত তথ্য এবং এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েতের বা প্রধানের সই।
(৭) এলাকায় কৃষি অধিকারীদের শস্য রোপনের সংশয় পত্র এবং সই।

• বাংলা শস্য বীমার স্ট্যাটাস চেক কীভাবে করতে হবে?
বাংলা শস্য বীমার স্ট্যাটাস চেক করতে হবে অনলাইনে। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট banglasasyabima.net এ গিয়ে কৃষকরা তাদের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবে। এই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটিতে গিয়ে বাংলা শস্য বীমা ভোটার আইডি নাম্বার উক্ত কৃষক তার স্ট্যাটাস চেক করতে পারবে।

• অফিসিয়াল ওয়েবসাইট:- Link

• আবেদন পত্র ডাউনলোড করো:- Link

পোষ্টটি ভালোলাগলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং এরকম আর‌ও তথ্য পেতে আজই যুক্ত হন আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে