Krishak-Bandhu-New-Form-2022

অনেকেই কোনো কারণে আগে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আবেদন করতে পারেননি, এবার তাদের জন্য এল সুখবর। ফের কৃষক বন্ধু প্রকল্পে (Krishak Bandhu) আবেদন করা শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই দেরী না করে অতি দ্রুত এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ করুন। উল্লেখ্য, কৃষক বন্ধু হলো পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক চালু করা একটি জনপ্রিয় প্রকল্প যার মাধ্যমে রাজ্যের কৃষকদের বার্ষিক ১২০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হয়। এই প্রকল্পে কীভাবে আবেদন করবেন, আবেদনের স্থান, আবেদনপত্র কোথায় জমা দিবেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কীভাবে আবেদন করবেন:- সম্প্রতি ২১ শে মে থেকে রাজ্যে ফের দুয়ারে সরকার কর্মসূচী চালু হয়েছে।

আপনার নিকটবর্তী দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে কৃষক বন্ধু লেখা টেবিলে গিয়ে সেখানে উপস্থিত সরকারি আধিকারিকের কাছ থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আবেদনের জন্য নতুন ফর্মটি নিন। মনে রাখবেন, শুধুমাত্র দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে দেওয়া ফর্মের মাধ্যমেই এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। অন্য কোনো জায়গা (যেমন -সাইবার ক্যাফে, জেরক্সের দোকান ইত্যাদি ) থেকে নেওয়া ফর্ম বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।

(ক) ফর্মটি নেওয়ার পরে এবার প্রথমে ফর্মের উপরের বক্সে নিজের স্ট্যাম্প সাইজ ফটো লাগিয়ে নিন।

এবার পরপর

• নাম (বড়ো হাতের ইংরেজিতে) ইংরেজি ক্যাপিটাল লেটারে নিজের নাম ভালো করে লিখবেন।

• তার নীচে নাম (পরচা অনুযায়ী বাংলায়) এর জায়গায় আপনার জমির পরচাতে যেভাবে বাংলায় আপনার নাম লেখা আছে সেভাবে লিখবেন।

° এবার বাসস্থানের ঠিকানাতে এক এক করে
• গ্রাম
• গ্রাম পঞ্চায়েত
• পোস্টঅফিস
• ব্লক
• থানা
• জেলা
• পিন
• পিতা/স্বামীর নাম
• জন্মতারিখ (DD/MM/YYYY ফরম্যাটে লিখতে হবে, অর্থাৎ কারোর জন্ম ৫ জানুয়ারি,১৯৯৫ হলে সে লিখবে ০৫/০১/১৯৯৫ এভাবে )
• বয়স (১/১/২০২২ তারিখের হিসাবে)
• লিঙ্গ (পুরুষ /মহিলা /অন্যান্য -যেটি হবে সেটিতে টিক দিবেন )
• শ্রেণী ( আপনি জেনারেল হলে সাধারণ লেখার আগের বক্সে টিক দিবেন, অনুরূপ SC হলে তপশিলি জাতির আগের বক্সে, ST হলে তপশিলি উপজাতির আগের বক্সে ও OBC হলে অনগ্রসর শ্রেণীর আগের বক্সে ক্লিক করবেন )
• কৃষকের ধরণ ( মালিক/বর্গাদার /পাট্টাদার যেটি হবেন সেই বক্সে টিক দিবেন)
• মোবাইল নম্বর (আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আধার কার্ডের সঙ্গে যেই মোবাইল নম্বরটি যুক্ত রয়েছে সেটি দিবেন )
• বিকল্প মোবাইল নম্বর (অন্য মোবাইল নম্বর থাকলে সেটি এখানে লিখবেন )
• আধার কার্ড নম্বর (আবশ্যিক)
• ভোটার কার্ড (EPIC) নম্বর (আবশ্যিক)

সবকিছু ফিল আপ করবেন।

• এবার ‘খ) কৃষিজমির তথ্য’ লেখাটির নীচের ছককাটা বক্সের মধ্যে একে একে ক্রমিক নং,জেলা, ব্লক, মৌজা, জে.এল নং, খতিয়ান নং, চাষযোগ্য জমির পরিমান লিখবেন।
একাধিক জায়গায় জমি থাকলে নীচের সারিতে আবার একইভাবে লিখবেন।

এরপরে ‘গ) ব্যাংকের তথ্য’ লেখাটির নীচে
• ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অনুযায়ী নাম
• অ্যাকাউন্ট নম্বর
• IFSC কোড
• ব্যাংকের নাম
• ব্যাংকের ব্রাঞ্চ
• অ্যাকাউন্টের ধরণ (আপনার সেভিংস না কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, সেটিতে ক্লিক করবেন )
• ব্যাংকের সংযুক্ত নথি (ব্যাংকের পাসবুক(ফটোসহ)/বাতিল চেক) এই বক্সে টিক দিবেন।

এবার ‘ঘ)Nominee/মনোনীত ব্যক্তির পরিচয়’ লেখাটির নীচে
• নমিনীর নাম
• আবেদনকারীর সাথে সম্পর্ক
• নমিনীর পিতা/স্বামীর নাম
• নমিনীর জন্মতারিখ
• নমিনীর অভিভাবকের নাম
প্রত্যেকটি লিখবেন

এবার ‘উপরোক্ত কৃষি জমি……’ এই লেখাটিতে আপনি কারোর থেকে উত্তরাধিকারে /ক্রয়ে (কিনেছেন )/উপহার /দান /অন্যান্য বিভিন্ন কারণে পেয়ে থাকলে শূন্যস্থানে তার নাম লিখবেন এবং যেই কারনে তার থেকে আপনি সেই জমি পেয়েছেন তার উপর টিক চিহ্ন দিবেন।তার KB ID (উনার যদি কৃষক বন্ধু প্রকল্পে নাম থেকে থাকে তাহলে তার ID, না থাকলেও সমস্যা নেই ), ভোটার কার্ড নম্বর, আধার কার্ড নম্বর প্রভৃতি লিখবেন।

ফর্মের নীচে তারিখ (যেই তারিখে ফর্ম ফিল আপ করছেন ), আবেদনকারীর স্বাক্ষররের জায়গায় নিজের সই করবেন। যদি সই করতে না জানেন তাহলে টিপসই দিলেও চলবে।

এবার একেবারে নীচের প্রাপ্তি স্বীকারের ওখানে কিছু লেখবেন না, ওখানে যা লেখার তা যেই সরকারি আধিকারিককে আপনি ফর্ম জমা দেবেন তিনি লিখবেন।

(ঘ) এবারে এর সাথে থাকা ‘আধার প্রামানিকরণের জন্য সম্মতিপত্র’ নামের এই ফর্মটিও পূরণ করতে হবে।
লেখার শুরুতেই কৃষকের নাম ও আধার নম্বর লিখে নিতে হবে এবং শেষে কৃষকের স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর লিখতে হবে।

• আবেদনপত্রের সাথে যেসব প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে সেগুলি হলো:-
(১) ভোটার কার্ড এর জেরক্স
(২) আধার কার্ড এর জেরক্স
(৩) ব্যাংকের পাসবুক /বাতিল ব্যাংক চেক এর জেরক্স
(৪) আপনার নিজের নামে থাকা চাষযোগ্য জমির পরচা /বর্গা নিবন্ধিকরণের জন্য নথি /পাট্টা বা বনবিভাগের পাট্টার কাগজ এর জেরক্স
(৫) যদি আপনার নিজের নামে জমি না থাকে সেক্ষেত্রে দানপত্র /দলিল /দেবোত্তর/অন্যান্য কাগজ এবং স্বঘোষণাপত্র (Self-declaration) এবং গ্রামের পঞ্চায়েতপ্রধানের দেওয়া ওয়ারিশন সার্টিফিকেট দিতে হবে।

উপরোক্ত সবকিছু যুক্ত (Attach) করে দুয়ারে সরকার শিবিরে জমা করে দেবেন। তাহলেই কিছুদিনের মধ্যে আপনি কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন এবং অন্যান্য কৃষকদের মতো রাজ্য সরকার কর্তৃক আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পাবেন।

• কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট – Link

এরকমই সরকারি প্রকল্প সম্পর্কিত আরও নানান গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন এবং নীচের ডানদিকের আইকনে ক্লিক করে আজই যুক্ত হন আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে