How-to-fulfill-the-dream-to-become-a-pilot-know-in-details

ছোটবেলা থেকেই অনেকেরই স্বপ্ন থাকে আকাশ ছোঁয়ার। তবে স্বপ্নপূরণের সঠিক রাস্তা না জানায় অনেকেরই স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়। আজ আমরা আলোচনা করবো কিভাবে, কোন কোর্সের মাধ্যমে আপনি একজন পাইলট হতে পারবেন (How to fulfill the dream to become a pilot, know in details):-

• আবশ্যিক যোগ্যতা:-
যেকোনো কোর্সে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রেও তাই রয়েছে।
১. শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
২. ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা থাকা আবশ্যক।
৩. গভর্নমেন্ট স্বীকৃত যেকোনো বোর্ড থেকে মাধ্যমিক পাশ করতে হবে।
৪. মাধ্যমিকের পর পদার্থবিদ্যা, গণিত এবং রসায়নে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে গভর্নমেন্ট স্বীকৃত যেকোনো বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক বা সমতুল্য কোনো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
৫. শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ৫ ফুট বা তার বেশি উচ্চতাসম্পন্ন হতে হবে।
৬. শিক্ষার্থীর বয়স অবশ্যই ১৬ থেকে ৩২ এর মধ্যে হতে হবে।
৭. শিক্ষার্থীর দৃষ্টিশক্তি প্রখর হতে হবে। এক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি ৬/৬ হতে হবে। তবে লেন্স বা চশমা ব্যবহারকারীরা শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
৮. শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে।
তবে পাইলট হওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন তা নয়, কলা (Arts) এবং বাণিজ্য (Commerce) বিভাগের শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা এবং গণিত নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।

• পরীক্ষা পদ্ধতি:-
ভারতে আপনি দু’ভাবে পাইলট হতে পারবেন। প্রথমত, বাণিজ্যিক বিমানের পাইলট বা কমার্শিয়াল পাইলট। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট।
১. বাণিজ্যিক বিমানের পাইলট বা কমার্শিয়াল পাইলট:- বাণিজ্যিক বিমানের পাইলট বা কমার্শিয়াল পাইলট হতে গেলে আপনাকে প্রথমেই পাইলট প্রবেশিকা পরীক্ষা (pilot entrance exam) তে উত্তীর্ণ হতে হবে। মূলত তিনটি ধাপে এই পরীক্ষা হয়ে থাকে- লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ এবং সবশেষে শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা। এরপর আপনাকে Directorate General of civil স্বীকৃত (DGCA) ফ্লাইং ক্লাবে ভর্তি হতে হবে এবং স্টুডেন্ট পাইলট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। এরপরই আপনার ট্রেনিং শুরু হবে। স্টুডেন্ট পাইলট হিসেবে আপনার ট্রেনিং শেষ হলে আপনাকে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং এরপরই আপনি একজন কমার্শিয়াল পাইলট হিসেবে বিবেচিত হবেন।

• আরও পড়ুন:- আপনার জীবনের লক্ষ্য কি পুলিশ হওয়া? তবে জানুন কোন পুলিশ হতে কি ধরনের যোগ্যতার প্রয়োজন হয়?

২. ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট:- ভারতীয় বিমাবাহিনীর পাইলট হবার ক্ষেত্রে আপনি উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর যেমন জয়েন করতে পারবেন তেমনই স্নাতক পাশ করার পরও জয়েন করতে পারবেন।
আপনি যদি উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর বায়ুসেনায় জয়েন করতে চান তবে আপনাকে UPSC আয়োজিত NDA পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এরপর আপনার ট্রেনিং সম্পন্ন হলে আপনি ভারতীয় বায়ুসেনায় পাইলট হিসেবে যোগ দিতে পারবেন।
অন্যদিকে, আপনি যদি স্নাতক পাশ করার পর ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যোগ দিতে চান তবে আপনাকে UPSC আয়োজিত CDSE পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এরপর ২ বছর আপনার প্রশিক্ষণ চলবে। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলেই আপনি একজন স্থায়ী পাইলট হিসেবে যোগ দিতে পারবেন।

• ভারতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পাইলট ট্রেনিং এর প্রতিষ্ঠানগুলো হল:-
১. Indira Gandhi Rashtriya Uran Akademi
২. Government Flying Training School
৩. All India Institute of Aeronautics
৪. Rajiv gandhi Aviation Academy
৫. West Bengal Flying Training Institute
৬. Indian Aviation Academy
৭. Ahmedabad Aviation and Aeronautics
৮. Chimes Aviation Academy
৯. Government Aviation Training Institute
১০. Ahmedabad Aviation and Aeronautics

• বেতন:-
একজন কমার্শিয়াল পাইলট হওয়ার ক্ষেত্রে আপনি সর্বপ্রথম ৪০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। এরপর পদোন্নতির সাথে সাথে আপনার বেতন বেড়ে সর্বোচ্চ ৫ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট হিসেবেও আপনি ৪ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন।

এইরকম চাকরির পরীক্ষা প্রস্তুতি সম্পর্কিত আরও নানান গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে আমাদের পেজটি ফলো করুন এবং নীচের ডানদিকের আইকনে ক্লিক করে আজই যুক্ত হোন আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে