Start-the-business-of-Phuchka-today-and-earn-50-thousand-per-month

আজকের দিনে বহু মানুষই ব্যবসার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। বর্তমানে এমনিতেই চাকরির বাজার খারাপ। তারমধ্যে কোনো চাকরি করলে আপনি কেবলমাত্র একটি ফিক্সড পরিমান টাকা মাসে ইনকাম করতে পারবেন। কিন্ত ব্যবসাতে এনিয়ম নেই। ঠিকভাবে ব্যবসা করতে পারলে মাসে মোটা টাকা ইনকাম করতে পারবেন, যা আপনাকে নিঃসন্দেহে এই খরচবহুল সমাজে টিকে থাকতে সাহায্য করবে (New Business Idea)।

তবে ব্যবসার প্রতি ঝোঁক থাকলেই যেকোনো বিজনেস শুরু করা উচিৎ না। আপনার নিজের আর্থিক পরিস্থিতি, আপনার এলাকাতে কোন ব্যবসা ভালো চলবে ইত্যাদি সমস্ত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে ভালো একটি ব্যবসা শুরু করা উচিৎ। তবে আজকের প্রতিবেদনে এমন একটি ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করবো যেটি আপনি সহজেই শুরু করতে পারবেন এবং এই ব্যবসা ভালোমতো মন দিয়ে করলে আপনি যেকোনো এলাকাতেই ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক, এই ব্যবসা ও তার খুঁটিনাটি সম্পর্কে।

আবেদন করুন টাটা ক্যাপিটাল পাঙ্খ স্কলারশিপে এবং পেয়ে যান বাৎসরিক ৫০,০০০ টাকা

• ব্যবসাটি কী?
আজকের আলোচিত ব্যবসাটি হলো ফুচকার ব্যবসা। ফুচকার ব্যবসা মূলত তিনপ্রকারের হয়।যেমন –

(১) নিজে ফুচকার দোকান খুলে ব্যবসা করা
(২) নিজের ফুচকা সম্পর্কিত রেস্টুরেন্ট খুলে তার ব্যবসা
(৩) নিজের বাড়িতে ফুচকা বানিয়ে তা পাইকারি হারে অন্য ফুচকার দোকানদারদের বিক্রি করা।

• কেনো ফুচকার ব্যবসা শুরু করবেন?
ফুচকা এমনিতেই বাঙালিদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। প্রায় সকল অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরাই ফুচকা খেয়ে থাকে। মেয়েদের মধ্যে আবার ফুচকার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ছোটো বড়ো যেকোনো বয়সের মেয়েদের মধ্যেই ফুচকা সমানহারে জনপ্রিয়। সেইজন্য ফুচকার দোকানে বেশিরভাগ সময়ই ভিড় থাকে। তাই সঠিক জায়গায় ফুচকার দোকান দিতে পারলে গ্রাহকের কোনো অভাব হবে না। এছাড়া এই ব্যবসায় লাভের হারও যথেষ্ট ভালো।

ফুচকা বানাতে অনেকটাই কম অর্থ লাগে। কিন্তু, ফুচকার দাম সময়ের সাথে বাড়ছে। এর কারণ মূলত ফুচকার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বৃদ্ধি। যেখানে গ্রাহকদের যতো বেশি চাহিদা সেখানে ফুচকার দাম তত বেশি। শহরে তো ১০ টাকায় মাত্র ৫ টি ফুচকা দেওয়া হয়। ফলে এই ব্যবসা শুরু করতে পারলে লাভের চিন্তা করতে হবে না। আবার অনলাইনে ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলোর সঙ্গে প্যাচ আপ করে ফুচকা বিক্রির ব্যবসা শুরু করলে আরও বেশি টাকা কামাতে পারবেন। কারণ অনলাইনে যেকোনো ফাস্ট ফুডের দাম দোকানের তুলনায় বেশি হয়। তাই সবদিক থেকে দেখলে ফুচকা বিক্রির ব্যবসা যে মঙ্গলজনক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আবেদন করুন এই পদ্ধতিতে এবং পেয়ে যান ১,৪০,০০০ টাকা

• ফুচকার ব্যবসা শুরু করতে কী কী লাগে?
ফুচকার ব্যবসা শুরু করতে আপনার যা যা লাগবে তা হলো–

(১) একটি কাঠ ও কাচ দিয়ে তৈরী বড়ো বাক্স, যার মধ্যে ফুচকাগুলো থাকবে।
(২) বড়ো স্টিলের পাত্র, যার মধ্যে ফুচকার জল থাকবে।
(৩) একটি স্টিলের মিডিয়াম সাইজ গামলা, যাতে আলুর সানা মাখা হবে।
(৪) প্লাস্টিক বা স্টিলের ছোটো কিছু জার, যেখানে আপনি লঙ্কাগুড়ো, বিভিন্ন মশলাপাতি রাখতে পারেন।
(৫) বিভিন্ন ফ্লেভারের সসের বোতল।
(৬) ব্যাটারী চালিত লাইট
(৭) ফুচকা দেওয়ার জন্য পাতার ছোটো বাটি

• ফুচকা ব্যবসা কীভাবে শুরু করবেন?
মনে রাখবেন, বাজারে অনেক ফুচকার দোকান রয়েছে। তাই সবসময় চেষ্টা করবেন তাদের থেকে যেনো আপনার দোকান একদম আলাদা হয়। এরজন্য নিজের দোকানে পরিষ্কার পরিছন্নতা বজায় রাখবেন। বেশিরভাগ ফাস্ট ফুডের দোকানেই কোনোরকম হাইজিন মানা হয় না। ফলে অনেক মানুষ এইসব দোকানে খেতে অনীহাবোধ করেন কিংবা একবার খেয়েই আর সেই দোকানে কখনও ফেরত আসেন না। তাই আপনি যদি নিজের দোকানে সবসময় পরিষ্কার পরিছন্নতা বজায় রাখেন তাহলে একই কাস্টমার পুনরায় আপনার দোকান থেকে ফুচকা খেতে আসবেন। এই হাইজিন মেইনটেইন করার জন্য আপনি মাস্ক ও গ্ল্যাভস পড়ে ফুচকা বিক্রি করতে পারেন। পাশাপাশি ফুচকা দেওয়ার জন্য প্লাস্টিক বা কাগজের বাটি না দিয়ে পাতার বাটি ব্যবহার করতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়ে গেল অগ্নিপথ প্রকল্পের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া, সমস্ত খুঁটিনাটি জেনে নিন

আলুসানা পরিষ্কার ভাবে মেখে ভালোভাবে ফুচকার মধ্যে দিতে পারেন। এছাড়া পরিছন্নতার সাথে সাথে একাধিক ফুচকা সম্পর্কিত পদও বেশি গ্রাহককে আকৃষ্ট করবে। তাই সাধারণ ফুচকার সাথে দইফুচকা, শুকনো ফুচকো, সস ফুচকা ইত্যাদি বিভিন্নরকম পদ বানাতে পারেন। আপনি চাইলে নিজের ইচ্ছেমতো ফুচকার পদও বানাতে পারেন এবং তা প্লেটের মধ্যে গ্রাহকদের দিতে পারেন। যতো সুন্দর ভাবে ফুচকার প্লেটটি সাজাবেন গ্রাহক তত বেশি খুশি হবেন। পারলে মাঝেসাঝে নানারকম আকর্ষণীয় অফারও দিতে পারেন। এছাড়া দোকানের জায়গাও ফুচকা ব্যবসার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় চেষ্টা করবেন জনবহুল এলাকায় নিজের স্টল দিতে।

এর পাশাপাশি নিজের দোকান বা রেস্টুরেন্ট থাকলে আপনি ফুড ডেলিভারি অ্যাপ, যেমন– জোম্যাটো, সুইগি ইত্যাদির সঙ্গে টাইআপ করে অনলাইনেও ফুচকা বিক্রি করতে পারেন। তাহলেও ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। মনে রাখবেন, সবসময় বেশি দামে ফুচকা বিক্রি করলেই ভালো লাভ হবে এমনটা নয়। চেষ্টা করবেন অন্য দোকানের থেকে কিছু কম টাকায় ফুচকা বিক্রি করতে। তাহলে আরও অনেক মানুষ আপনার দোকানে ফুচকা খেতে আসবে কিংবা অনলাইনে আপনার স্টল থেকে বেশি অর্ডার করবেন, যার ফলে আপনার ব্যবসা বহুগুন বেড়ে যাবে।

• ফুচকার ব্যবসা করার জন্য কতো টাকা লাগবে?
কম বিনিয়োগ করেই এই ব্যবসায় প্রচুর টাকা মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। উপরোক্ত জিনিসগুলো কিনতে আপনার ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকার মতো খরচ হবে। এছাড়া ব্যবসা ভালো হতে শুরু করলে আপনি ফুচকা বানানোর মেশিনও কিনতে পারেন। তারফলে কম সময়ে প্রচুর পরিমান ফুচকা বানাতে পারবেন। বাজারে এই মেশিনগুলো ৩৫,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়। আপনি এরকম একটি মেশিন কিনে আপনার ব্যবসা আরও ভালোভাবে বাড়াতে সক্ষম হবেন। ফুচকা বিক্রি করে মাসে প্রথমের দিকে ২০,০০০ টাকার মধ্যে ইনকাম করতে পারবেন। তবে ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়তে থাকলে এবং খাবারের গুণগত মান বজায় থাকলে মাসে ৫০,০০০ টাকাও কামাতে পারবেন। সবকিছুই আপনার নিজের ওপর নির্ভর করবে।

ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত এইরকম আরও নানান গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন এবং নীচের ডানদিকের টেলিগ্রাম আইকনে ক্লিক করে আজই জয়েন হোন আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে