Four-important-questions-and-answers-about-Swami-Vivekananda-Scholarship

শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য করার জন্য এবং ভবিষ্যতে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে স্বনির্ভর হতে পারে তার জন্য তাদের বিভিন্ন প্রকার স্কলারশিপ প্রদান করা হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের উদ্যোগে যেসকল ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের আর্থিক অবস্থার কারণে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে অক্ষম তারা যাতে উচ্চ শিক্ষালাভ করতে পারে তা সুনিশ্চিত করার জন্য নানাবিধ স্কলারশিপ প্রদান করা হয়ে থাকে। এই সকল স্কলারশিপগুলির তালিকায় অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম হলো স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিন্স স্কলারশিপ (Swami Vivekananda Scholarship)। ইতিপূর্বে বিগত মাসের ১৭ তারিখ অর্থাৎ ১৭ ই আগস্ট ২০২২ থেকে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের অনুদানের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অনেক ছাত্রছাত্রী এখনও পর্যন্ত এই স্কলারশিপের আবেদন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সঠিকভাবে জানেন না। তার ফলে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীকে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের আবেদনের জন্য ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রে নানা প্রকার জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আর তাই আজ আমরা আলোচনা করতে চলেছি স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ এর এমন কিছু অজানা তথ্য নিয়ে যেগুলি না জানলে আবেদনের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হতে পারে আপনাকেও।

১. স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে নম্বর কম থাকলে কি করণীয়?
স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের অনুদানের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর স্তরে নির্দিষ্ট নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ না হলে এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করা যায় না। অর্থাৎ স্কলারশিপের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে যোগ্যতা আবশ্যক তা আবেদনকারী ছাত্র অথবা ছাত্রীর বিগত পরীক্ষার নম্বর। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় কিছু ছাত্র-ছাত্রী ১ অথবা ২ নম্বরের জন্য তাদের কোর্সের ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপে আবেদনের জন্য যতো শতাংশ নম্বর প্রয়োজন তা পায়না। যার জেরে কিছু সংখ্যক ছাত্রছাত্রী তাদের নম্বর খানিকটা বাড়িয়ে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের অনুদানের জন্য আবেদন করে থাকেন। কিন্তু এটি করা কোনভাবেই উচিত নয়। স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের অনুদানের জন্য যেসকল আবেদনপত্রগুলি জমা পড়ে সেগুলি বিভিন্ন স্তরে বারংবার ভেরিফাই করা হয় এবং সেক্ষেত্রে অবশ্যই নম্বরের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। কোনো ছাত্র কিংবা ছাত্রী যদি তাদের নম্বর বাড়িয়ে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেন তার আবেদনপত্রটি অবশ্যই তিনি সাবমিট করতে পারবেন, কিন্তু কোনোভাবেই অনুদান পাবেন না।

৬ ই সেপ্টেম্বর বিশেষ ছুটির কারণে পরীক্ষা বাতিলের নির্দেশ দিলো মধ্যশিক্ষা পর্ষদ

২. ইনকাম সার্টিফিকেট কার নামে ইস্যু করতে হবে?
যেসকল ছাত্র-ছাত্রী স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের ফ্রেশ অ্যাপ্লিকেশন করে থাকেন তাদের আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে একটি অবশ্য প্রয়োজনীয় নথি হলো পরিবারের ইনকাম সার্টিফিকেট। কিন্তু এক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকেই যায় যে কার নামে এই আয়ের শংসাপত্রটি ইস্যু করতে হবে। এক্ষেত্রে ইনকাম সার্টিফিকেট অবশ্যই শিক্ষার্থীর নামে ইস্যু করতে হবে এবং অভিভাবক হিসেবে পিতা কিংবা মাতার নাম থাকবে। যদিও ছাত্র কিংবা ছাত্রীর নামে ইনকাম সার্টিফিকেট ইস্যু করার সাথে উক্ত ছাত্র অথবা ছাত্রীর আয়ের কোনো সংযোগ নেই। যেহেতু ওই শিক্ষার্থী স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করছেন তাই তার পরিবারের আয়ের সার্টিফিকেটটিও তার নামেই ইস্যু করা প্রয়োজন।

৩. Year gap থাকলে কি করণীয়?
অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাক্ষেত্রে Year gap থাকে। আর এর ফলে যেসকল ছাত্র-ছাত্রীদের Year gap রয়েছে সেই সকল ছাত্র-ছাত্রীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন নাকি পারবেন না তা নিয়ে রীতিমত ধন্ধে রয়েছেন। এই সকল ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে যে, যেসকল ছাত্র-ছাত্রীদের Year gap রয়েছে তারা স্কলারশিপের অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। যদিও বর্তমানে কেবলমাত্র একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্রেশ এবং রিনিউয়াল অ্যাপ্লিকেশনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে ছাত্র-ছাত্রীদের এই স্কলারশিপের অনুদানের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হলে এই নিয়মে কোনো বদল করা হবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ওয়েসিস স্কলারশিপে আবেদন করতে গেলে এবার থেকে মানতে হবে এই দশটি নিয়ম

৪. স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের আবেদনপত্র বাতিল হওয়ার কারণগুলি কি কি?
স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের আবেদনপত্র বাতিল হওয়ার অজস্র কারণ রয়েছে। তবে বিশেষত যে কারণগুলি কিংবা ছাত্র-ছাত্রীদের যে ভুলগুলির কারণে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যায় সেগুলি হলো,
i. স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিন্স স্কলারশিপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী যদি কোনো শিক্ষার্থী পরিবারের আয়ের সার্টিফিকেট সঠিকভাবে আপলোড না করেন তবে তার আবেদনপত্রটি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই স্কলারশিপে আবেদনের ক্ষেত্রে পরিবারের ইনকাম সার্টিফিকেটটি অবশ্যই BDO, Joint BDO, SDO, Municipality কিংবা কোনো A গ্রেডের অফিসারের কাছ থেকে অ্যাপ্রুভড হতে হবে।

ii. যেসকল শিক্ষার্থীদের year gap রয়েছে তারা যদি এই স্কলারশিপের অনুদানের জন্য আবেদন করেন তবে অনেকক্ষেত্রেই তারা year gap এর সঠিক কারণটি বর্ণনা করতে পারেন না। আর তাই তাদের আবেদনপত্রকে তৎক্ষণাৎ বাতিল বলে বিবেচিত হয়।

এইরকম আরও স্কলারশিপ সংক্রান্ত নানান গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে আমাদের পেজটি ফলো করুন এবং নীচের ডানদিকের আইকনে ক্লিক করে আজই যুক্ত হোন আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে